সুজন মিয়া ফুলতলা গ্রামের একজন কৃষক। বাড়ি থেকে বাজারে যেতে হলে তাকে দুপুরে প্রচণ্ড রোদে চার কিলোমিটার পথ অতিক্রম করতে হয়। বিশ্রাম নেওয়ার মতো ছায়া কোথাও নেই। তাই সে কয়েকজন কৃষকের সাথে আলোচনা করে সম্পূর্ণ রাস্তায় কিছু বনজ বৃক্ষের চারা রোপণ করে। তারা উৎপাদিত দ্রব্যগুলো চুক্তি অনুযায়ী বণ্টনের সিদ্ধান্ত নেয়।
উদ্যান জাতীয় ফসল বাড়ির আশেপাশে বন্যামুক্ত উর্বর জমিতে বিশেষ যত্ন ও পরিচর্যার মাধ্যমে চাষ করা হয়।
বাণিজ্যিক ভিত্তিতে মাঠে টমেটো চাষ করা হলেও স্বল্প পরিসরে বাড়ির আশেপাশেও চাষ করা হয়। সবজি জাতীয় ফসল উদ্যান ফসলের অন্তর্ভুক্ত। টমেটো সবজি হিসেবে খাওয়া হয়। টমেটো চাষে ও পরিপক্কের পর উত্তোলনের (Harvest) সময় বিশেষ যত্নের প্রয়োজন হয়, যা উদ্যান ফসলের বৈশিষ্ট্য। এ সকল কারণে টমেটোকে উদ্যান ফসলের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
উদ্দীপকের কৃষক সুজন মিয়া আরো কয়েকজন কৃষকের সহায়তায় বনজ বৃক্ষের চারা রোপণ করে যা কৃষির সামাজিক বনায়ন ক্ষেত্রের অন্তর্ভুক্ত।
দরিদ্র জনগোষ্ঠীর আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন, বনজ সম্পদের উৎপাদন বৃদ্ধি ও পরিবেশ সংরক্ষণের লক্ষ্যে কোনো এলাকার জনসাধারণের প্রত্যক্ষ অংশগ্রহণের মাধ্যমে বসতবাড়ি, রাস্তা, বাঁধ, খাস জমি এবং বিভিন্ন ধর্মীয় ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে গড়ে তোলা বনায়নকে সামাজিক বনায়ন বলে। সামাজিক বনায়নের ক্ষেত্রে যে এলাকায় বনায়ন করা হবে সে এলাকার জনগণের মধ্য থেকে ভূমিহীন কৃষক, দুস্থ মহিলা, অনগ্রসর জনগোষ্ঠী, অসচ্ছল মুক্তিযোদ্ধা ও প্রান্তিক কৃষকদের নিয়ে দল গঠন করতে হয়। সামাজিক বনায়নে অংশগ্রহণকারী জনগণের ভোগের অধিকার নিশ্চিত করতে চুক্তিনামা করা হয়। তারা বন অধিদপ্তরের সাথে যৌথ কর্মপরিকল্পনা তৈরি করে। চুক্তিনামায় উল্লিখিত প্রত্যেক উপকারভোগী সমান হারে লভ্যাংশ পান। এছাড়া এই বন থেকে প্রাপ্ত ডালপালা, ফল, কৃষিজাত ফসল ইত্যাদি উপকারভোগীরা পেয়ে থাকেন। উপকারভোগীরা বৃক্ষ রোপণ, পরিচর্যা ও রক্ষণাবেক্ষণ করে থাকেন। গবাদিপশুর আক্রমণ রোধে উপকারভোগী জনগণ বাগান রক্ষণাবেক্ষণ ও পরিচর্যা করেন।
অতএব, উল্লিখিত আলোচনার মাধ্যমে কৃষির একটি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র সামাজিক বনায়ন সম্পর্কে জানা যায়।
আপনি আমাকে যেকোনো প্রশ্ন করতে পারেন, যেমনঃ
Are you sure to start over?